ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ , ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপার সংরক্ষিত বনায়ন এখন অরক্ষিত অবৈধ মাছ শিকারে হুমকির মুখে ম্যানগ্রোভ বন ও জীববৈচিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-০৪ ০০:০০:০২
গলাচিপার সংরক্ষিত বনায়ন এখন অরক্ষিত অবৈধ মাছ শিকারে হুমকির মুখে ম্যানগ্রোভ বন ও জীববৈচিত্র গলাচিপার সংরক্ষিত বনায়ন এখন অরক্ষিত অবৈধ মাছ শিকারে হুমকির মুখে ম্যানগ্রোভ বন ও জীববৈচিত্র
সঞ্জীব কুমার সাহা, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

গলাচিপার সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনায়ন এখন কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। বনের অভ্যন্তরের বিভিন্ন খালে বাঁধ দিয়ে চলছে অবৈধ মাছ শিকার। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ম্যানগ্রোভ বন, জলজ প্রাণী ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র। চরকারফারমার এলাকার মাছ শিকারি বাকপ্রতিবন্ধী জসিমের স্ত্রী রেশমা বেগম দাবি করেন, প্রতিবছরই বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে সংরক্ষিত বনের খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করা হয়। তবে মাছ শিকারের বিষয়টি স্বীকার করলেও গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী জানিয়েছেন,5 এখন পর্যন্ত কোনো খালের জন্য বৈধভাবে বিট বা মাছ শিকারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলায় বন বিভাগের উদ্যোগে ১৫ হাজার ২৯০ একর ম্যানগ্রোভ বনায়নকে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনায়ন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সেই সংরক্ষিত বনেই মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।



অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে বনের অভ্যন্তরের খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে দেদারসে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এর ফলে সংরক্ষিত বনায়নের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চরকারফারমার এলাকার মাছ শিকারি বাকপ্রতিবন্ধী জসিমের স্ত্রী রেশমা বেগম বলেন, “দুই সপ্তাহ আগে চরকারফারমার সংরক্ষিত বনের একটি খালে বাঁধ দিয়ে অবৈধ মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে আমার স্বামী জসিমের ওপর ওই এলাকার জাফর ও মাহাবুব হামলা করে। তখন জাফর বলে, ‘খাল আমরা চার লাখ টাকা দিয়ে বিট রাখছি, তোরা মাছ ধরতে পারবি না।’ আমরা চাই খালগুলো খোলা থাকুক, যাতে আমাদের মতো গরিব মানুষ জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।” অভিযোগের বিষয়ে চরকারফারমার সংরক্ষিত বনের অভিযুক্ত মাছ শিকারি মাহাবুব বলেন, “জসিমের সঙ্গে আমাদের একটু ঝামেলা হয়েছিল। আমরা ফরেস্ট অফিস ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে চরকারফারমার বনের দক্ষিণ পাশের মোট আটটি খাল বিট নিয়েছি। এছাড়া অন্য খালগুলোও অন্যরা বিট নিয়েছে। আমরা যে খাল নিয়েছি, সেখানে জসিম মাছ ধরতে গেলে বাধা দেওয়ায় ঝামেলা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।” সংরক্ষিত বনের মধ্যস্বত্বভোগী মোশারেফ প্যাদা বলেন, “প্রতিবছরই এসব বন বিট দেওয়া হয়। এ বছরও ফরেস্ট অফিস ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেই খালের বিট নেওয়া হয়েছে। যারা বিট নেয় তারাই মাছ ধরে, আবার কেউ কেউ সেই বিট অন্যদের কাছে বিক্রিও করে। তবে কোন অফিস বা রাজনৈতিক নেতাদের কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তা পরে বলব।” এ বিষয়ে বন বিভাগের গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বনায়নের খাল বিট দেইনি। যারা খালে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, “সংরক্ষিত বনের ভেতরে প্রবেশ করা মানেই বন ও বনের স্বাভাবিক পরিবেশ ধ্বংস করা।


বিভিন্ন সময় সরেজমিনে কথা বলে আমরা দেখেছি, তারা শুধু মাছই ধরে না, অনেক ক্ষেত্রে খালে বিষও প্রয়োগ করে। এতে শুধু মাছ নয়, ছোট-বড় সব ধরনের জলজ প্রাণী এবং পুরো বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুন্দরবনের ভেতরেও একই ধরনের ঘটনা দেখা যায়। এসব বন্ধে প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোর অবস্থান নিতে হবে।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ